সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে "বাংলাদেশকে দখল করার জন্য ইসরায়েলকে সাহায্য করছে ভারত, প্রকাশ্যে ভারতীয় জেনারেলের হুমকি" এমন দাবিতে একটি ভিডিও প্রচার করা হচ্ছে।
ভিডিওটিতে ভারতীয় সেনাবাহিনীর ইউনিফর্ম পরিহিত এক কর্মকর্তাকে বলতে শোনা যায়, "আমরা ভারতের জনগণকে আশ্বস্ত করতে চাই, সন্ত্রাসী ইরানি শাসনের অবসান ঘটানোর লক্ষ্যে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রকে পূর্ণ সমর্থন দিচ্ছে ভারত। ইসরায়েলের চূড়ান্ত লক্ষ্য যেমন ‘বৃহত্তর ইসরায়েল’, তেমনি আমাদের চূড়ান্ত লক্ষ্য ‘অখণ্ড ভারত’। যদি ইসরায়েল ইরানকে পরাজিত করতে সক্ষম হয়, তাহলে পাকিস্তানকে তিন দিক থেকে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে,পূর্ব দিক থেকে ভারত এবং অন্য দিকগুলো থেকে আফগান ও ইসরায়েলপন্থী ইরান। এটিই অখণ্ড ভারত পুনঃপ্রতিষ্ঠার পথ। বাংলাদেশ ও নেপাল থেকে আসা হুমকির বিষয়টি পরবর্তীতে মোকাবিলা করা হবে।"
একই ভিডিও সম্বলিত ফেসবুক পোস্ট দেখুন এখানে,এখানে,এখানে এবং এখানে।
তবে অনুসন্ধানে দেখা যায়, প্রচারিত দাবিটি সঠিক নয়।
ভিডিওটির কয়েকটি কি-ফ্রেম রিভার্স ইমেজ সার্চের মাধ্যমে অনুসন্ধান করে ২০২৫ সালের ৪ জুলাই প্রকাশিত ‘প্রেস ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়া’ (পিটিআই নিউজ) এর একটি পুরোনো এক্স (সাবেক টুইটার) পোস্ট পাওয়া যায়। সেখানে ভিডিওতে থাকা ব্যক্তিকে ভারতীয় সেনাবাহিনীর আর্মি ডিজাইন ব্যুরোর অতিরিক্ত মহাপরিচালক (এডিজি) মেজর জেনারেল সিএস মান হিসেবে পরিচয় দেওয়া হয়।
পিটিআই নিউজের পোস্টের ক্যাপশনে উল্লেখ করা হয়, মেজর জেনারেল সিএস মান বলেছেন, “কোনো সামরিক সরঞ্জামে চীনা যন্ত্রাংশ ব্যবহার করা হবে না। দুর্বলতা দূর করতে আমরা কঠোর যাচাই ও নির্ধারিত প্রটোকল অনুসরণ করছি।”
পিটিআই নিউজে প্রকাশিত ভিডিওটির সঙ্গে প্রচারিত ভিডিওর হুবহু মিল পাওয়া যায়। উভয় ভিডিওতেই মেজর জেনারেল সিএস মানের সামনে থাকা পানির বোতল, মাইক্রোফোন এবং তার ব্যবহৃত চেয়ার একই রকম দেখা যায়। অর্থাৎ, একই ভিডিওর ওপর ভিন্ন অডিও সংযোজন করে নতুন দাবি প্রচার করা হয়েছে।
অনুসন্ধানে ভিডিওটির একটি পুরনো সংস্করণ পাওয়া যায়
এছাড়া, ভিডিওটি এআই শনাক্তকরণ টুল ‘হাইভ মডারেশন’ এ পরীক্ষা করলে সেটি ভিডিওটিকে কৃত্রিমভাবে তৈরি বা ডিপফেক কনটেন্ট হিসেবে চিহ্নিত করে। টুলটির বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ভিডিওটিতে ব্যবহৃত কণ্ঠস্বর ৭২ দশমিক ৮ শতাংশ সম্ভাবনায় এআই-জেনারেটেড।
হাইভ মডারেশনের রেজাল্ট
উল্লেখ্য, মেজর জেনারেল সিএস মানের একই ভিডিও বিকৃত করে এর আগেও অপপ্রচার চালানো হয়েছিল। এ বিষয়ে তথ্য যাচাইকারী প্রতিষ্ঠান ডিসমিসল্যাব ২০২৬ সালের মার্চ মাসে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল।
সবমিলিয়ে, “বাংলাদেশকে দখল করার জন্য ইসরায়েলকে সাহায্য করছে ভারত” এমন দাবিতে ভারতীয় জেনারেলের নামে প্রচারিত ভিডিওটি সম্পাদিত ও এআই জেনারেটেড কণ্ঠস্বর সংযোজনের মাধ্যমে তৈরি করা হয়েছে। ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত দাবিটি বিভ্রান্তিকর।