সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে “ঢাকা-চাঁদপুর রুটে আতঙ্ক, ডুবে যাওয়ার উপক্রম যাত্রীবাহী লঞ্চ” শিরোনামে একটি ভিডিও ব্যাপকভাবে প্রচার করা হচ্ছে। ভিডিওতে একটি যাত্রীবাহী লঞ্চকে ডুবে যাওয়ার পরিস্থিতিতে দেখা যায়। একই সঙ্গে ব্যাকগ্রাউন্ডে একজন ব্যক্তিকে আতঙ্কিত কণ্ঠে “লঞ্চ ডুবে যাচ্ছে। আল্লাহ তুমি বাঁচাও, আল্লাহ লঞ্চ ডুবে যাচ্ছে” বলে চিৎকার করতে শোনা যায়।
একই দাবিতে প্রচারিত ফেসবুক পোস্ট দেখুন এখানে, এখানে, এখানে এবং এখানে।
তবে অনুসন্ধানে ভিডিওটির সঙ্গে প্রচারিত দাবির কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি।
দাবিটি যাচাই করতে প্রাসঙ্গিক কীওয়ার্ড ব্যবহার করে অনুসন্ধান চালিয়ে ঢাকা-চাঁদপুর রুটে সাম্প্রতিক সময়ে কোনো লঞ্চ ডুবির ঘটনা জাতীয় কিংবা স্থানীয় গণমাধ্যম বা টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে পাওয়া যায়নি।
যদিও অনুসন্ধানে কান্নারত কণ্ঠে “লঞ্চ ডুবে যাচ্ছে” বলে শোনা যাওয়া অংশটি এটিএন নিউজের “চাঁদপুরে লঞ্চঘাটে ঝড়ের কবলে যাত্রীবাহী লঞ্চ, যাত্রীদের দুর্ভোগ” শিরোনামের একটি সংবাদ প্রতিবেদনে পাওয়া যায়। এটিএন নিউজ গত ২৫ মে ২০২৬ তারিখে তাদের ইউটিউব চ্যানেলে ভিডিওটি প্রকাশ করে।
পরে চাঁদপুরে ঘটে যাওয়া ওই ঘটনার বিষয়ে আরও অনুসন্ধান চালিয়ে বেশ কয়েকটি জাতীয় গণমাধ্যম ও টিভি চ্যানেলে সংবাদ পাওয়া যায়। তবে কোথাও প্রচারিত ভিডিওটির অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। বরং গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে ভিন্ন তথ্য। প্রথম আলোর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, চাঁদপুর লঞ্চঘাটে হঠাৎ ঝড়ের কবলে পড়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ঢাকা থেকে আসা ‘ঈগল-৭’ লঞ্চটি ঘাটে থাকা ‘ময়ূর-২’ লঞ্চকে ধাক্কা দেয়। এতে দুটি লঞ্চই ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং তাড়াহুড়ো করে নামতে গিয়ে অন্তত ১০ জন যাত্রী আহত হন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে প্রতিবেদনে জানানো হয়, ২৫ মে দুপুরে হঠাৎ শুরু হওয়া ঝড়ের কারণে লঞ্চঘাটে আতঙ্ক তৈরি হয়। যাত্রীরা সন্তান, ব্যাগ ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী ফেলে দ্রুত ঘাটে নামতে শুরু করেন। পরে নৌ পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, কোস্টগার্ড, রেড ক্রিসেন্ট সদস্য এবং স্থানীয়রা যাত্রীদের সহায়তা করেন। তবে এই ঘটনায় কোনো লঞ্চ ডুবে যাওয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে প্রচারিত ভিডিওটি পর্যবেক্ষণ করেও বেশ কিছু অসংগতি দেখা যায়। ভিডিওতে লঞ্চের নিচতলা ডুবে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি দেখানো হলেও দ্বিতীয় তলায় থাকা মানুষদের বেশ শান্তভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়, যা বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ। এছাড়া লঞ্চের গায়ে “ঢাকা-চাঁদপুর-ঢাকা” লেখা স্পষ্ট দেখা গেলেও লঞ্চের উপরের অংশে থাকা আরেকটি লেখা অস্পষ্ট এবং তা বাংলা বর্ণমালার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এসব অসঙ্গতি ভিডিওটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তৈরি হওয়ার সম্ভাবনাকে আরও জোরালো করে।
সুতরাং, “ঢাকা-চাঁদপুর রুটে যাত্রীবাহী লঞ্চ ডুবে যাওয়ার উপক্রম” দাবিতে প্রচারিত ভিডিওটি বাস্তব কোনো ঘটনার নয়; বরং প্রকৃত ঘটনার আতঙ্কের অডিও ব্যবহার করে এআই-নির্মিত বা বিকৃত একটি ভিডিও বিভ্রান্তিকরভাবে প্রচার করা হচ্ছে।