রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে গত ১৯ মে ধর্ষণের পর নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার হয় ৮ বছরের শিশু রামিসা। মর্মান্তিক এই ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। এরই প্রেক্ষাপটে ফেসবুকে একটি ছবি প্রচার করা হচ্ছে, যেখানে দাবি করা হয় “আলোচিত রামিসার বাবার হাতে ১০ লক্ষ টাকার চেক তুলে দিলেন জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান”।
এমন দাবিতে প্রচারিত কয়েকটি ফেসবুক পোস্ট দেখুন এখানে, এখানে,এখানে এবং এখানে।
তবে অনুসন্ধানে দাবিটির পক্ষে কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি। প্রাসঙ্গিক কীওয়ার্ড ব্যবহার করে অনুসন্ধান করে রামিসার বাবাকে জামায়াতের আমিরের পক্ষ থেকে ১০ লাখ টাকার চেক প্রদান সংক্রান্ত কোনো গ্রহণযোগ্য সূত্র পাওয়া যায়নি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত কয়কটি পোস্টের স্ক্রিনশট
জাতীয় পর্যায়ের কোনো গণমাধ্যম, টেলিভিশন চ্যানেল, জামায়াতের অফিসিয়াল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট কিংবা দলটির মিডিয়া উইং থেকেও এ ধরনের কোনো তথ্য প্রকাশিত হয়নি।
অন্যদিকে, রিভার্স ইমেজ সার্চের মাধ্যমে দেখা যায়, গত ২০ মে ঢাকা-১৬ আসনের সংসদ সদস্য কর্নেল (অব.) আব্দুল বাতেন রামিসার বাবার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও কর্নেল বাতেনের ফেসবুক পেজে প্রকাশ করা হয়। পর্যালোচনায় দেখা যায়, ভিডিওটির ব্যাকগ্রাউন্ডের সঙ্গে প্রচারিত চেক হস্তান্তরের ছবির পটভূমির হুবহু মিল রয়েছে।
এ থেকে প্রতীয়মান হয়, রামিসার বাবার সঙ্গে কর্নেল বাতেনের সাক্ষাতের মূল ছবিটি সম্পাদনা করে সেখানে কর্নেল বাতেনের পরিবর্তে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানের ছবি সংযুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া কর্নেল বাতেনের প্রকাশিত ভিডিও বা পোস্টে ১০ লাখ টাকার কোনো চেক প্রদানের বিষয়েও উল্লেখ পাওয়া যায়নি।
প্রচারিত ছবিটি যাচাইয়ে এআইভিত্তিক ইমেজ বিশ্লেষণ টুল হাইভ মডারেশন (Hive Moderation) আলোচিত ছবিটিকে ৮৩ শতাংশ সম্ভাবনায় ডিপফেক বা কৃত্রিমভাবে তৈরি/পরিবর্তিত ছবি হিসেবে শনাক্ত করেছে।
সুতরাং, “রামিসার বাবাকে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান ১০ লাখ টাকার চেক দিয়েছেন” এমন দাবির পক্ষে কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি। প্রচারিত ছবিটি সম্পাদিত এবং দাবিটি বিভ্রান্তিকর।