রাজধানী ঢাকার ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফেরাতে সম্প্রতি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিনির্ভর ক্যামেরা স্থাপন শুরু করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে ট্রাফিক আইন অমান্য করলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মামলা ও জরিমানার তথ্য সংশ্লিষ্ট যানবাহনের মালিকের মোবাইল ফোনে এসএমএসের মাধ্যমে পাঠানো হচ্ছে। গত বৃহস্পতিবার (৭ মে) থেকে পরীক্ষামূলকভাবে এ কার্যক্রম শুরু হয়।
এরইমধ্যে গতকাল (১১ মে) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটিতে দাবি করা হয়, ডিএমপির স্থাপন করা একটি এআই ক্যামেরা রাজধানীর ৩০০ ফিট এলাকা থেকে চুরি হয়ে গেছে। পরবর্তীতে জাতীয় পর্যায়ের একাধিক গণমাধ্যমেও এ দাবিতে সংবাদ প্রকাশিত হয়।
এই ঘটনায় প্রচারিত গণমাধ্যমের পোস্ট দেখুন এখানে, এখানে এবং এখানে।
তবে অনুসন্ধানে দেখা যায়, দাবিটি সঠিক নয় এবং ভিডিওটি বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াতে ব্যবহৃত হয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে “Md Ashiq” নামের একটি অ্যাকাউন্ট থেকে প্রথম ভিডিওটি পোস্ট করা হয়।
সামাজিক মাধ্যমে সর্বপ্রথম Md Ashiq নামক অ্যাকাউন্ট থেকে ভিডিওটি আপলোড করা হয়।
পরে বিষয়টি নিয়ে প্রকাশিত বাংলাদেশ প্রতিদিনের একটি প্রতিবেদনে দেখা যায়, বাংলাদেশ পুলিশ কল্যাণ ট্রাস্টের এক সদস্য হাতে একটি ভাঙা ট্রাফিক সিগন্যাল লাইট দেখিয়ে বলেন, “এটা হচ্ছে প্রচণ্ড ঝড় হয়। ঝড়ের কারণে এটা ভেঙে পড়ে যায়। তখন আমরা নিজ দায়িত্বে এটা সংগ্রহ করে রাখি।”
সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও জানান, সেখানে কোনো এআই ক্যামেরা ছিল না। বরং সেখানে একটি ট্রাফিক সিগন্যাল লাইট স্থাপন করা ছিল। তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় এক মাস আগেই ঝড়ের কারণে সিগন্যাল লাইটটি ভেঙে পড়ে। অর্থাৎ ডিএমপির এআই ক্যামেরা স্থাপনের কার্যক্রম শুরুরও আগে ঘটনাটি ঘটে।
সুতরাং, “৩০০ ফিট এলাকা থেকে ডিএমপির এআই ক্যামেরা চুরি হয়ে গেছে” এমন দাবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কিছু গণমাধ্যমে প্রচারিত ভিডিওটি বিভ্রান্তিকর।